২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত হয়েছে?
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রথমবারের মতো ৩ হাজার মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, এই অর্থবছরে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০ ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায়, প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ১৫ পয়সা হিসেবে এর পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয়।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত শতাংশে দাঁড়িয়েছে?
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ভিন্ন পূর্বাভাস দিলেও, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাময়িক হিসাবে এই তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংক ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, যা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নের শর্তে। অন্যদিকে, এডিবি এই অর্থবছরে ৩.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা জানিয়েছে।
২০২৬ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি কত ছিল?
২০২৬ সালের জুন মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে এসেছে। মে মাসে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। মূলত খাদ্যদ্রব্যের দামের নিম্নগতির কারণেই এই প্রবণতা দেখা গেছে। জুন মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ।
২০২৬ সালের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ কত ছিল?
২০২৬ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে নিট রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে, ১২ জুলাই পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে রিজার্ভ ছিল ৩১.৯৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট কত রেমিট্যান্স এসেছে?
২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত (২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ৩৬৩ দিনে) বাংলাদেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫.৩৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩০.০৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ১৭.৬ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে ১৬২ কোটি ৩৮ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট কত টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬ সালের ১১ জুন জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ করেন। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট প্রস্তাব। এই বাজেটে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কত নির্ধারণ করা হয়েছে?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকার ৬৩.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের উচ্চাভিলাষী রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫.২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮.২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর এই লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন।
২০২৬ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য কী ছিল?
২০২৬ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'রিয়েলাইজিং দ্য হোপস অ্যান্ড অ্যাস্পিরেশনস অব ইয়ং পিপল-টুডে অ্যান্ড ফর দ্য ফিউচার'। এর অর্থ 'তরুণদের আশা ও আকাঙ্ক্ষা উপলব্ধি করা- আজ এবং ভবিষ্যতের জন্য'। প্রতি বছর ১১ জুলাই বিশ্বব্যাপী এই দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এই প্রতিপাদ্য ঘোষণা করেছে।
২০২৬ সালের বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবসের প্রতিপাদ্য কী ছিল?
২০২৬ সালের বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'Skills for a Shared Future' বা 'দক্ষতায় গড়ি সম্মিলিত ভবিষ্যৎ'। প্রতি বছর ১৫ জুলাই বিশ্বব্যাপী এই দিবস পালিত হয়। এই প্রতিপাদ্য দক্ষতা উন্নয়নকে শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক সংহতি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি সামষ্টিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে।
২০২৬ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজক দেশ এবং প্রতিপাদ্য কী ছিল?
২০২৬ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আয়োজক দেশ ছিল আজারবাইজান এবং মূল অনুষ্ঠান হয় রাজধানী বাকুতে。 এ বছরের অফিসিয়াল থিম ছিল 'Inspired by Nature. For Climate. For Our Future.'। এর বাংলা অর্থ 'প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণায়। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য'। এই দিবসটি প্রতি বছর ৫ জুন পালিত হয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি কী?
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার রেল যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।
ঢাকা মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬ এর সম্প্রসারণের সর্বশেষ অবস্থা কী?
ঢাকা মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৬ এর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশ ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। বর্তমানে এই লাইনের কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। এই সম্প্রসারণের ফলে আরও বেশি যাত্রী মেট্রোরেলের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। এটি ঢাকার যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় ছয়টি মেট্রোরেল লাইন চালুর পরিকল্পনা করেছে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অবস্থা কী?
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনও ধীর গতিতে চলছে। বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। তবে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে।
স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ রূপকল্পের প্রধান লক্ষ্য কী?
স্মার্ট বাংলাদেশ ২০৪১ রূপকল্পের প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও উদ্ভাবনী স্মার্ট জাতিতে রূপান্তরিত করা। এর চারটি মূল স্তম্ভ রয়েছে: স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি এবং স্মার্ট সমাজ। এই রূপকল্প বাস্তবায়নে সরকার ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে জোর দিচ্ছে। এটি ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্স কেমন ছিল?
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মিশ্র পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। কিছু সিরিজে ভালো ফল এলেও, বড় টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতার অভাব দেখা গেছে। দল বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছে। তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক। আসন্ন সিরিজ ও টুর্নামেন্টগুলোতে ভালো করার জন্য দল প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ কী?
বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত বীজ ও সার সরবরাহ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃষকদের প্রণোদনা প্রদান। সরকার কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন জাতের ফসল উদ্ভাবনেও জোর দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি খাতের উন্নয়ন অপরিহার্য।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার বেশ কিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়লাভিত্তিক, গ্যাসভিত্তিক এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় প্রকল্পগুলো উৎপাদনে আসছে। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে সবার জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে বেসরকারি বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের ভূমিকা কী?
বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার বিভিন্ন নীতি ও সুবিধা প্রদান করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং কর অবকাশ সুবিধা। সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগ অপরিহার্য।
বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২৬ এর প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২৬ শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক ও আনন্দময় শিক্ষা প্রদানের ওপর জোর দিয়েছে। এই শিক্ষাক্রমে মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে হাতে-কলমে শেখা এবং প্রায়োগিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা বিকাশে সহায়তা করবে। নতুন শিক্ষাক্রম পর্যায়ক্রমে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর অগ্রগতি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য কী?
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছে। এটি দেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইট হবে এবং এটি মূলত আর্থ অবজারভেশন বা ভূ-পর্যবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত হবে। এই স্যাটেলাইট কৃষি, আবহাওয়া, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সরকার এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা কেমন?
বাংলাদেশের শেয়ারবাজার সাম্প্রতিক সময়ে মিশ্র প্রবণতা দেখাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং বাজারকে স্থিতিশীল করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাজারের গভীরতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাব এবং স্থানীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত শেয়ারবাজারের গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার জন্য সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যটন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন, নতুন পর্যটন আকর্ষণ তৈরি এবং বিদেশি পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি। কক্সবাজার, সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পর্যটন অবকাঠামো উন্নত করা হচ্ছে। নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিত করতেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এটি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
বাংলাদেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা কী?
বাংলাদেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি। যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ২৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কত ছিল?
২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৬) বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে প্রায় ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর তৃতীয় প্রান্তিকে এই বড় পতন দেখা গেছে。 এটি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের গড় আয়ু বৃদ্ধিতে সাম্প্রতিক প্রবণতা কী?
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ক্রমাগত বাড়ছে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি, পুষ্টি ও স্যানিটেশনের প্রসার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমাতেও সরকার সফল হয়েছে। তবে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে আরও কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। গড় আয়ু বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশের নারী শিক্ষায় সরকারের সাম্প্রতিক অগ্রগতি কী?
বাংলাদেশের নারী শিক্ষায় সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি, বিনামূল্যে বই বিতরণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চশিক্ষায়ও নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নারী শিক্ষা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের প্রধান লক্ষ্য কী?
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো সবার জন্য মানসম্মত ও সুলভ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, হাসপাতালগুলোতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি। সরকার সংক্রামক ও অসংক্রামক উভয় রোগ প্রতিরোধে কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি বিকাশে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি বিকাশে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, ইন্টারনেট সহজলভ্য করা এবং ই-কমার্স ও ফিনটেক খাতকে উৎসাহিত করা। তরুণদের জন্য ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সরকার 'স্মার্ট বাংলাদেশ' রূপকল্পের আওতায় ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে। এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক।
বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার হ্রাসে সরকারের ভূমিকা কী?
বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার হ্রাসে সরকার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমেও দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নীতি দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
জাতীয় শোক দিবস বাংলাদেশে কবে পালিত হয় এবং এর তাৎপর্য কী?
জাতীয় শোক দিবস বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ আগস্ট পালিত হয়। এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে ১৯৭৫ সালের এই দিনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দিবসটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। এই দিনে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের স্মরণ করে। এটি বাঙালি জাতির শোক ও শ্রদ্ধার দিন।