২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার কত ছিল?
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩.৯৭ শতাংশ। এটি করোনা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি। একই অর্থবছরে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। তবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৫০ শতাংশ হয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের পরিমাণ কত ছিল?
২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে রেকর্ড ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এটি আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। একক অর্থবছর হিসেবে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রবাসী আয়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০.৬৬ শতাংশ বেশি ছিল।
১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর সার্বিক লেনদেন পরিস্থিতি কেমন ছিল?
১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থান হলেও লেনদেন কমেছে। এদিন ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৯২৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫১৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৩৬ কোটি টাকা কম। আগের দিন, ১৪ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৬৫১ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত ছিল?
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা। এটি আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ এর মাথাপিছু আয় ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জুলাই ২০২৬ এর প্রথম ১৪ দিনে বাংলাদেশে কত রেমিট্যান্স এসেছে?
জুলাই ২০২৬ এর প্রথম ১৪ দিনে বাংলাদেশে ১৫৪ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই তথ্য দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় থাকার ইঙ্গিত দেয়। রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জুলাই ২০২৬ এর প্রথম ১২ দিনে বাংলাদেশে কত রেমিট্যান্স এসেছে?
জুলাই ২০২৬ এর প্রথম ১২ দিনে বাংলাদেশে ১.৩২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এই প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশের নতুন শিক্ষাক্রম কবে থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে?
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ঘোষণা করেছেন যে, নতুন শিক্ষাক্রম ২০২৫ সাল থেকে সারাদেশে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে। ২০২৩ সাল থেকে এটি ধাপে ধাপে চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক কোনো গ্রুপ থাকছে না। এছাড়া, পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষাও থাকবে না।
বাংলাদেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালা ২০২৪ এর খসড়ায় কী বলা হয়েছে?
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে। এতে একটি স্বাধীন এআই সংস্থা গঠন এবং উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই সেন্টার চালু, সংশ্লিষ্ট খাতে শিক্ষানবিশ প্রোগ্রাম এবং এআইভিত্তিক সেবা দিতে কর্তৃপক্ষের মানসনদ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে। এই নীতিমালার লক্ষ্য বাংলাদেশকে এআই উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি গ্রহণে অগ্রগামী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার ও সুফল বিশ্বজুড়ে সমবণ্টনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোন ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নৈতিক ব্যবহার ও এর সুফল বিশ্বজুড়ে সমবণ্টনের লক্ষ্যে 'ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬' সম্মেলনের গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণায় বাংলাদেশ স্বাক্ষরকারী ৮৯তম দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই ঘোষণার মূল লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল শুধু উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমগ্র মানবজাতির কাছে সমানভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও সিঙ্গাপুরের মতো শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে এক কাতারে শামিল হয়েছে।
বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব কেমন?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে, যদিও উন্নত দেশগুলোর তুলনায় এর গতি কিছুটা ধীর। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজের গতি বাড়াতে এবং পরিচালন ব্যয় কমাতে এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারে ঝুঁকছে। এর ফলে কিছু প্রথাগত চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়লেও, নতুন ধরনের পেশা ও দক্ষতার চাহিদা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, গণমাধ্যম, কাস্টমার সার্ভিস ও উৎপাদন খাতে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়ন (র্যাম) প্রতিবেদন কবে প্রকাশিত হয়েছে?
নৈতিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পন্ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতি মূল্যায়ন (র্যাম) প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে এই প্রতিবেদন উন্মোচন করা হয়। এটি এআই গ্রহণের মাধ্যমে অধিকার সুরক্ষা, অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক, আইনগত, সামাজিক ও কারিগরি প্রস্তুতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৪ এর মূল লক্ষ্য কী?
বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৪ এর মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল পরিসরে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করা। এই আইন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর পরিবর্তে প্রণীত হয়েছে। এটি সাইবার অপরাধ দমনে এবং ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আইনটি ডেটা সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায়ও জোর দেয়।
২০২৪ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য কী ছিল?
২০২৪ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'আমাদের জমি। আমাদের ভবিষ্যৎ। আমরা #প্রজন্মপুনরুদ্ধার' (Our land. Our future. We are #GenerationRestoration)। এই প্রতিপাদ্য ভূমি পুনরুদ্ধার, মরুকরণ রোধ এবং খরা সহনশীলতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। প্রতি বছর ৫ জুন এই দিবসটি পালিত হয়, যা পরিবেশ রক্ষার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পদক্ষেপকে উৎসাহিত করে।
২০২৬ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আনুষ্ঠানিক প্রতিপাদ্য বিষয় কী?
২০২৬ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের আনুষ্ঠানিক প্রতিপাদ্য বিষয় হলো 'প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।' এই বছরের প্রচারাভিযানের মূল লক্ষ্য হলো জরুরি জলবায়ু পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বারোপ করে।
২০২৪ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য কী ছিল?
২০২৪ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'অন্তর্ভুক্তিমূলক উপাত্ত ব্যবহার করি, সাম্যের ভিত্তিতে সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ি।' প্রতি বছর ১১ জুলাই এই দিবসটি পালিত হয়, যা জনসংখ্যা সংক্রান্ত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই দিবসের উদ্দেশ্য হলো পরিবার পরিকল্পনা, লিঙ্গ সমতা, দারিদ্র্য এবং মাতৃস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আলোকপাত করা।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ২০২৪ এর প্রতিপাদ্য কী ছিল?
২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'নিজের ও সমাজের জন্য যোগ' (Yoga for Self and Society)। এই থিমটি যোগব্যায়ামের ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত উভয় দিককেই তুলে ধরে। প্রতি বছর ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়, যার উদ্দেশ্য হলো যোগব্যায়ামের মাধ্যমে মানুষকে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবন সম্পর্কে সচেতন করা।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কবে এবং এর মূল উদ্দেশ্য কী?
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও প্রচারের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ও। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভূমিকা ২০২৩-২০২৪ কেমন ছিল?
জাতিসংঘে বাংলাদেশ ২০২৩-২০২৪ সালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি রক্ষা মিশন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ তার অবস্থান তুলে ধরেছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন ফোরামে কাজ করেছে। দেশটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রচারে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বাংলাদেশের নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে?
নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আসছে। নবম থেকে দশম শ্রেণিতে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক কোনো গ্রুপ থাকছে না। এছাড়া, পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষাও থাকবে না। এই শিক্ষাক্রম ২০২৫ সাল থেকে সারাদেশে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে।
নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষকদের জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে?
নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে এবং টিচার্স গাইড তৈরি হচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে প্রাথমিকে ১০০টি এবং মাধ্যমিকে ১০০টি প্রতিষ্ঠানে পাইলটিং শুরু হয়েছে। মাধ্যমিকের সঙ্গে মাদ্রাসা ও কারিগরি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও এই পাইলটিং এর আওতায় আনা হয়েছে। শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন শিক্ষাক্রমের সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে, যা এআই উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি গ্রহণে দেশকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। এই নীতিমালায় একটি স্বাধীন এআই সংস্থা গঠন, উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা পরিষদ এবং সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই সেন্টার চালুর কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ 'নয়াদিল্লি ঘোষণা'য় স্বাক্ষর করেছে, যা এআইয়ের নৈতিক ব্যবহার ও সুফল বিশ্বজুড়ে সমবণ্টনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে এআইকে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দেখছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রধান বাধাগুলো কী কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রধান বাধাগুলো হলো গবেষণা অবকাঠামো, দক্ষ মানবসম্পদ, ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত কাঠামোর ঘাটতি। মানসম্মত ডেটাসেট তৈরি, সংরক্ষণ এবং গবেষণার জন্য উন্মুক্ত করার কাঠামো দুর্বল। বাংলা ভাষার ক্ষেত্রেও উন্নত মানের ডেটাসেটের অভাব রয়েছে, যা বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে। এছাড়া, এআই খাতে অভিজ্ঞ মেশিন লার্নিং প্রকৌশলী ও ডেটা প্রকৌশলীর মতো উচ্চস্তরের দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে।
বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে?
বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৪ প্রণয়ন করেছে। এই আইন ডিজিটাল পরিসরে অপরাধ দমনে এবং নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষায় কাজ করবে। এছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালার খসড়ায় এআই-নির্ভর ঝুঁকি মোকাবিলায় পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। সরকার সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা নিয়ে আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ফুটবল দলের বর্তমান অবস্থা কী?
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রাথমিক রাউন্ডে মালদ্বীপকে হারিয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে। এই জয়ের ফলে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ছয় ধাপ এগিয়ে ১৮৩তম স্থানে উঠে এসেছে। দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিনের বিপক্ষে 'আই' গ্রুপে খেলবে। এটি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
এশিয়ান গেমস ২০২৬ এর জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি কেমন চলছে?
এশিয়ান গেমস ২০২৬ এর জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি চলছে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো বড় অগ্রগতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে বিভিন্ন ফেডারেশন তাদের খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণে ব্যস্ত রয়েছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) গেমসে ভালো ফল করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রতি বছর ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনের উদ্দেশ্য কী?
প্রতি বছর ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়, যার মূল উদ্দেশ্য হলো যোগব্যায়ামের মাধ্যমে মানুষকে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবন সম্পর্কে সচেতন করা। এই দিনটি বিশ্বব্যাপী যোগব্যায়ামের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। যোগব্যায়াম শরীর ও মনের ভারসাম্য এবং সুস্থতার জন্য একটি সামগ্রিক পদ্ধতি। ২০২৪ সালের প্রতিপাদ্য ছিল 'নিজের ও সমাজের জন্য যোগ'।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস কবে পালিত হয় এবং এর গুরুত্ব কী?
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস প্রতি বছর ১১ জুলাই পালিত হয়। এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা সংক্রান্ত সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর গুরুত্ব হলো পরিবার পরিকল্পনা, লিঙ্গ সমতা, দারিদ্র্য, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে আলোকপাত করা। অতিরিক্ত জনসংখ্যা অপুষ্টি, দূষণ এবং স্বাস্থ্যসেবার অভাবের মতো অসংখ্য সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস কবে পালিত হয় এবং এর ইতিহাস কী?
বিশ্ব পরিবেশ দিবস প্রতি বছর ৫ জুন পালিত হয়। ১৯৭২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিবসটি প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর এটি পালিত হয়ে আসছে। এই দিবসটি পরিবেশ রক্ষার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পদক্ষেপকে উৎসাহিত করার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্ম। এটি পরিবেশগত প্রচারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দিবস।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের পেছনে বাঙালির কোন আত্মত্যাগ জড়িত?
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের পেছনে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ জড়িত। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে তার প্রতিবাদে এদেশের ছাত্র সমাজ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে। সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ আরও অনেকের তাজা রক্তে ঢাকার রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল, যার ফলে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করে। এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস কবে এবং এর তাৎপর্য কী?
বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ পালিত হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এই দিনটি বাঙালি জাতির আত্মত্যাগ, বীরত্ব এবং স্বাধীন জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রতীক। এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পরিচয়ের স্মারক।