Description
মাক্সিম গোর্কির ‘মা’ উপন্যাসটি বিংশ শতাব্দীর সাহিত্যের এক মাইলফলক। এটি ১৯০৬ সালে প্রকাশিত হয় এবং সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতাবাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র পেলেগেয়া নিলোভনা একজন সাধারণ রুশ শ্রমিক মা। তার স্বামী একজন মাতাল এবং নিষ্ঠুর মানুষ যিনি পরিবারকে নির্যাতন করে। স্বামীর মৃত্যুর পর নিলোভনা একাই ছেলে পাভেলকে বড় করে তোলে। পাভেল কারখানায় কাজ করে এবং বিপ্লবী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়। সে গোপনে সমাজতান্ত্রিক সাহিত্য পড়ে এবং বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলন গড়ে তোলে। মা প্রথমে ছেলের এই কার্যকলাপ বুঝতে পারে না এবং ভয় পায়। কিন্তু ধীরে ধীরে সে ছেলের বন্ধুদের সংস্পর্শে আসে। তাদের আদর্শ এবং মানবতা তাকে প্রভাবিত করে। নিলোভনা বুঝতে পারে যে শ্রমিকদের দুঃখের মূল কারণ শোষণমূলক ব্যবস্থা। সে নিজেও প্যামফলেট বিতরণ করতে শুরু করে। একদিন পুলিশ পাভেলকে গ্রেফতার করে। মা তখন আরও দৃঢ়সংকল্প হয়। সে বিপ্লবীদের সঙ্গে যোগ দেয় এবং তাদের সাহায্য করে। উপন্যাসে রাইবিন এবং আন্দ্রে নাখোদকার মতো চরিত্রগুলি শ্রমিক শ্রেণির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। গোর্কি দেখিয়েছেন কীভাবে একজন নিরক্ষর মা শিক্ষিত হয়ে ওঠে এবং চেতনায় উন্নীত হয়। উপন্যাসটি শুধু ব্যক্তিগত গল্প নয় বরং সমগ্র শ্রমিক শ্রেণির জাগরণের প্রতীক। এটি ভয় থেকে সাহসের যাত্রা বর্ণনা করে। নীরবতা থেকে প্রতিবাদের উচ্চারণে পৌঁছানোর কাহিনি এটি। সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রামের গুরুত্ব এখানে ফুটে উঠেছে। উপন্যাসের ভাষা সরল কিন্তু গভীর। চরিত্রগুলির মানসিক পরিবর্তন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে চিত্রিত। গোর্কি শ্রমিকদের দৈনন্দিন জীবনের কষ্টকে জীবন্ত করে তুলেছেন। ক্ষুধা দারিদ্র্য এবং শোষণের বাস্তব ছবি এখানে আছে। একই সঙ্গে আশা এবং সংহতির বার্তাও প্রবাহিত। উপন্যাসটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিক আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। অনেক ভাষায় এর অনুবাদ হয়েছে। বাংলা সাহিত্যেও এটি গভীর প্রভাব ফেলেছে। পাঠককে এটি চিন্তা করতে বাধ্য করে সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে। মা চরিত্রটি মাতৃত্বের নতুন সংজ্ঞা দেয়। সে শুধু সন্তানের মা নয় বরং সংগ্রামের মা। উপন্যাসের শেষে মায়ের রূপান্তর সম্পূর্ণ হয়। সে এখন একজন সচেতন বিপ্লবী। গোর্কির এই সৃষ্টি আজও প্রাসঙ্গিক। কারণ শোষণ এবং অসাম্য এখনও বিদ্যমান। উপন্যাসটি পড়লে মনে হয় পরিবর্তন সম্ভব যদি মানুষ জেগে ওঠে। এটি সাহিত্য এবং রাজনীতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। গোর্কি প্রমাণ করেছেন সাহিত্য কীভাবে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হতে পারে। ‘মা’ তাই শুধু একটি উপন্যাস নয় একটি আন্দোলন। এর প্রভাব শতাব্দী পেরিয়েও অক্ষুণ্ণ। পাঠক এর পাতায় খুঁজে পায় সাহস এবং আশা। এটি মানব মুক্তির এক অমর কাহিনি।












Reviews
There are no reviews yet.