Description
সমরেশ মজুমদারের ‘সাতকাহন’ বাংলা সাহিত্যের এক উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র দীপা এক সাহসী এবং স্বতন্ত্রচেতা নারী। উপন্যাসটি তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরে। শুরু হয় উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের পটভূমিতে। দীপার শৈশব এবং কৈশোর সেখানে কাটে। সামাজিক রক্ষণশীলতা এবং নারীশোষণের বিরুদ্ধে তার বিদ্রোহ জন্মায়। বাল্যবিবাহের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা তাকে আরও দৃঢ় করে। সে নিজের লক্ষ্যে অটল থাকে। পরে কলকাতায় এসে পড়াশোনা করে। ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনৈতিক পরিবেশ তাকে প্রভাবিত করে। কর্মজীবনেও সে সংগ্রাম করে। উপন্যাসটি নারীর আত্মপ্রতিষ্ঠার কাহিনি। দীপা কোনো বাধার কাছে নতিস্বীকার করে না। সমরেশ মজুমদার নারী চরিত্র সৃষ্টিতে দক্ষ। দীপা তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। উপন্যাসের পটভূমি বিস্তৃত। চা-বাগানের প্রকৃতি থেকে শহরের জটিলতা সব আছে। সামাজিক পরিবর্তনের ছবিও ফুটে উঠেছে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলার বাস্তবতা এখানে প্রতিফলিত। দীপার জীবনে প্রেম আছে কিন্তু তা তাকে পথচ্যুত করে না। সে নিজের পরিচয় রক্ষা করে। উপন্যাসের ভাষা প্রাঞ্জল এবং আকর্ষণীয়। চরিত্রগুলির সংলাপ জীবন্ত। সমরেশ মজুমদার সমাজের নিম্ন এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবন ভালো বুঝতেন। তাই বর্ণনা বাস্তবসম্মত। উপন্যাসটি নারীবাদী চেতনা জাগায়। দীপা প্রমাণ করে যে নারী নিজের ভাগ্য গড়তে পারে। সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব। উপন্যাসের শিরোনাম ‘সাতকাহন’ ইঙ্গিত করে জীবনের বিচিত্র অধ্যায়ের কথা। দীপার জীবন যেন সাতটি কাহিনির সমষ্টি। প্রতিটি পর্যায়ে সে নতুন করে জন্মায়। পাঠক তার সংগ্রামের সঙ্গে একাত্ম হয়। উপন্যাসটি দীর্ঘ কিন্তু গতিশীল। ঘটনাপ্রবাহ আকর্ষণীয়। সমরেশ মজুমদারের অন্যান্য উপন্যাসের মতো এটিও জনপ্রিয়। নারী মুক্তির বার্তা এখানে শক্তিশালী। দীপা চরিত্রটি অনুপ্রেরণার উৎস। সে দেখায় যে শিক্ষা এবং সাহস নারীকে স্বাধীন করে। উপন্যাসটি সামাজিক সমস্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাল্যবিবাহ নারী নির্যাতন এবং কর্মক্ষেত্রের বৈষম্য আলোচিত। কিন্তু আশাবাদী সুর বজায় আছে। দীপা জয়ী হয়। উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যে নারী চরিত্রের এক মাইলফলক। পাঠক এর মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারে। সমরেশ মজুমদারের কলমের শক্তি এখানে স্পষ্ট। এটি এক অমর নারী সংগ্রামের কাহিনি।












Reviews
There are no reviews yet.