Description
মৈত্রেয়ী দেবীর ‘ন হন্যতে’ বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। এটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয় এবং সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পায়। উপন্যাসের নামের অর্থ ‘যা মরে না’ বা ‘অমর’। এটি মির্চা এলিয়াদের ‘লা নুই বেঙ্গলী’-এর প্রত্যুত্তর। মৈত্রেয়ী দেবী দেখাতে চেয়েছেন যে সত্য কখনও মরে না। কাহিনি ১৯৩০ সালের কলকাতায় শুরু হয়। তখন তিনি মাত্র ষোলো বছরের কিশোরী। তার বাবা সুরেন্দ্রনাথ দাশগুপ্ত একজন প্রখ্যাত দার্শনিক। বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেক বুদ্ধিজীবী আসতেন। মির্চা এলিয়াদ তখন ভারতে এসেছিলেন দর্শন অধ্যয়ন করতে। তিনি তাদের বাড়িতে থাকতেন। মৈত্রেয়ীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হয়। এলিয়াদ পরে একে প্রেমের কাহিনি হিসেবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু মৈত্রেয়ী দেবী বলেন সম্পর্ক ছিল মূলত বৌদ্ধিক এবং আধ্যাত্মিক। তিনি শারীরিক সম্পর্কের দাবি অস্বীকার করেন। উপন্যাসে তিনি নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাগুলি বর্ণনা করেন। বাবার কঠোরতা এবং সামাজিক নিয়মের চাপ ফুটে উঠেছে। প্রেমের নামে সাংস্কৃতিক অপব্যাখ্যা কীভাবে হয় তা তিনি দেখিয়েছেন। উপন্যাসটি শুধু প্রেমের গল্প নয় বরং নারীর আত্মমর্যাদার ঘোষণা। মৈত্রেয়ী দেবী প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে পূর্বের নারী পশ্চিমের কল্পনার মতো নয়। তিনি শিক্ষিত স্বাধীনচেতা এবং আত্মসচেতন। উপন্যাসের ভাষা মার্জিত এবং গভীর। স্মৃতির মাধ্যমে অতীতকে পুনর্গঠন করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতি উপন্যাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। সামাজিক পরিবেশ এবং পারিবারিক জীবনের ছবি জীবন্ত। মৈত্রেয়ী দেবী দেখিয়েছেন কীভাবে একজন নারী নিজের সত্য রক্ষা করে। এলিয়াদের উপন্যাস তাকে আঘাত করেছিল। কিন্তু তিনি প্রতিশোধ নেননি বরং সত্য তুলে ধরেছেন। উপন্যাসটি প্রেমের অমরত্বের কথা বলে। শরীর মরলেও আত্মা এবং স্মৃতি থাকে। শিরোনাম গীতা থেকে নেওয়া যা আত্মার অবিনশ্বরতা নির্দেশ করে। পাঠক দুই সংস্করণ পড়ে সত্যের জটিলতা বুঝতে পারে। এটি উপনিবেশিক যুগের সাংস্কৃতিক সংঘাতের দলিল। নারীর কণ্ঠস্বর এখানে শক্তিশালী। মৈত্রেয়ী দেবী নিজের জীবনকে সাহিত্যে রূপ দিয়েছেন। উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যে নারীবাদী চেতনার এক উদাহরণ। এটি পড়লে মনে হয় সত্যের জন্য লড়াই করা জরুরি। প্রেমকে বিকৃত করা যায় না যদি তা শুদ্ধ হয়। উপন্যাসের শেষে এক ধরনের শান্তি এবং গ্রহণযোগ্যতা আছে। তিনি অতীতকে মেনে নিয়েছেন কিন্তু নিজের মর্যাদা রক্ষা করেছেন। এটি আত্মজীবনী এবং উপন্যাসের সীমানা মুছে দেয়। পাঠক অনুভব করে ইতিহাসের এক ব্যক্তিগত সংস্করণ। মৈত্রেয়ী দেবীর সাহস এবং সততা প্রশংসনীয়। উপন্যাসটি আজও প্রাসঙ্গিক কারণ সাংস্কৃতিক ভুল বোঝাবুঝি এখনও ঘটে। এটি প্রেম স্মৃতি এবং সত্যের এক অমর কাহিনি।












Reviews
There are no reviews yet.