Description
মির্চা এলিয়াদের ‘লা নুই বেঙ্গলী’ বা ‘বেঙ্গল নাইটস’ একটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। এটি মূলত রোমানিয়ান ভাষায় লেখা এবং পরে ফরাসিতে অনূদিত হয়। কাহিনি ১৯৩০-এর দশকের কলকাতাকে কেন্দ্র করে। প্রধান চরিত্র অ্যালান একজন ইউরোপীয় প্রকৌশলী। সে ভারতে কাজ করতে আসে এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়। সুস্থ হওয়ার পর সে নরেন্দ্র সেনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। নরেন্দ্র সেন একজন শিক্ষিত বাঙালি প্রকৌশলী। তার কন্যা মৈত্রেয়ী তখন কিশোরী। অ্যালান মৈত্রেয়ীর সঙ্গে পরিচিত হয় এবং ধীরে ধীরে প্রেমে পড়ে। তাদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। মৈত্রেয়ী বুদ্ধিমতী এবং কবিতা লেখে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্নেহধন্য সে। অ্যালান ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু তাদের প্রেম সামাজিক নিয়মের বিরুদ্ধে যায়। মৈত্রেয়ীর ছোট বোন তাদের সম্পর্ক দেখে ফেলে। ফলে পরিবারে সংকট দেখা দেয়। নরেন্দ্র সেন অ্যালানকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মৈত্রেয়ীকেও আলাদা করে রাখা হয়। দুজনেই গভীর যন্ত্রণা ভোগ করে। অ্যালান হিমালয়ে চলে যায় শান্তি খুঁজতে। সেখানে সে আরেক নারীর সঙ্গে পরিচিত হয়। উপন্যাসটি পূর্ব ও পশ্চিমের সাংস্কৃতিক পার্থক্য তুলে ধরে। এলিয়াদ ভারতকে রহস্যময় এবং আধ্যাত্মিক হিসেবে দেখেছেন। প্রেমের শারীরিক এবং মানসিক দিক দুটোই এখানে আছে। উপন্যাসটি প্রকাশের পর বিতর্ক সৃষ্টি করে। মৈত্রেয়ী দেবী পরে এর জবাবে নিজের সংস্করণ লেখেন। এলিয়াদের বর্ণনায় সম্পর্ক আরও রোমান্টিক এবং সংবেদনশীল। তিনি নিষিদ্ধ প্রেমের তীব্রতা দেখিয়েছেন। সাংস্কৃতিক বাধা কীভাবে ব্যক্তিগত সুখ নষ্ট করে তা স্পষ্ট। উপন্যাসের ভাষা কাব্যিক এবং আবেগপূর্ণ। চরিত্রগুলির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। অ্যালানের দৃষ্টিতে ভারত এক অজানা জগৎ। মৈত্রেয়ী সেই জগতের প্রতীক। তাদের বিচ্ছেদ অনিবার্য হয়ে ওঠে। উপন্যাসটি উপনিবেশিক যুগের সামাজিক বাস্তবতাও তুলে ধরে। জাতি এবং সংস্কৃতির দেয়াল কতটা শক্তিশালী তা দেখা যায়। এলিয়াদ দার্শনিক হিসেবে পরিচিত। তার এই সাহিত্যকর্মও দার্শনিক চিন্তার ছাপ বহন করে। প্রেম কি সর্বজনীন না কি সাংস্কৃতিক সীমায় আবদ্ধ এই প্রশ্ন ওঠে। উপন্যাসটি পাঠককে ভাবিয়ে তোলে। এটি শুধু প্রেমের গল্প নয় বরং পরিচয়ের সংকটের গল্প। পরে চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে এর ওপর। বাংলা পাঠকদের কাছে এটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় কারণ পটভূমি কলকাতা। উপন্যাসটি আজও আলোচিত হয় দুই দৃষ্টিকোণ থেকে। এলিয়াদের সংস্করণ এক ধরনের সত্য তুলে ধরে। কিন্তু সম্পূর্ণ সত্য নয় বলে অনেকে মনে করেন। তবু সাহিত্য হিসেবে এটি উল্লেখযোগ্য। এর আবেগ এবং বর্ণনা পাঠককে মুগ্ধ করে। এটি আন্তঃসাংস্কৃতিক সম্পর্কের জটিলতা শেখায়। প্রেম কখনও সহজ পথ নয় এই শিক্ষা এখানে আছে।












Reviews
There are no reviews yet.