Description
হারুকি মুরাকামির ‘নরওয়েজিয়ান উড’ তার সবচেয়ে জনপ্রিয় উপন্যাসগুলির একটি। এটি ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় এবং জাপানে তুমুল সাড়া ফেলে। উপন্যাসের নাম বিটলসের বিখ্যাত গান থেকে নেওয়া। কাহিনি শুরু হয় ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে টোকিওতে। প্রধান চরিত্র তরু ওয়াতানাবে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সে নাট্যকলা নিয়ে পড়াশোনা করে। তার জীবন নিঃসঙ্গ এবং বিষণ্ণ। একদিন সে তার পুরনো পরিচিত নাওকোর সঙ্গে দেখা করে। নাওকো তার বন্ধু কিজুকির প্রেমিকা ছিল। কিজুকি আত্মহত্যা করেছিল। সেই ঘটনা তরু এবং নাওকো উভয়কেই গভীরভাবে প্রভাবিত করে। নাওকো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তরু তার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং তার যত্ন নিতে চায়। একই সময়ে সে মিদোরি নামের এক প্রাণবন্ত মেয়ের সঙ্গে পরিচিত হয়। মিদোরি জীবনমুখী এবং আনন্দময়। তরুর জীবনে দুই বিপরীত নারী এসে উপস্থিত হয়। নাওকো তাকে অতীতের দিকে টানে আর মিদোরি বর্তমানের দিকে। উপন্যাসটি প্রেমের জটিলতা নিয়ে আলোচনা করে। এটি হারানোর বেদনা এবং জীবনের অর্থ খোঁজার কাহিনি। মুরাকামি যৌবনের একাকীত্বকে অসাধারণভাবে চিত্রিত করেছেন। ছাত্র আন্দোলন এবং সামাজিক পরিবর্তনের পটভূমিও আছে। কিন্তু মূল ফোকাস ব্যক্তিগত আবেগের ওপর। নাওকোর মানসিক অবস্থা ধীরে ধীরে অবনতি হয়। সে এক স্যানিটোরিয়ামে চলে যায়। তরু তাকে দেখতে যায় কিন্তু সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে। মিদোরির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গভীর হয়। উপন্যাসে মুরাকামির স্বাক্ষর স্টাইল স্পষ্ট। সরল ভাষায় গভীর অনুভূতি প্রকাশ। সংগীতের উল্লেখ বিশেষ করে বিটলস গানগুলি পরিবেশ সৃষ্টি করে। পাঠক তরুর মানসিক দ্বন্দ্ব অনুভব করে। প্রেম কি শুধু আবেগ না কি দায়িত্ব সে প্রশ্ন ওঠে। উপন্যাসটি জীবন এবং মৃত্যুর সম্পর্ক নিয়ে চিন্তা করতে বাধ্য করে। যৌবনের ক্ষণস্থায়ী সুখ এবং দীর্ঘস্থায়ী বেদনা এখানে মিশে আছে। মুরাকামি দেখিয়েছেন কীভাবে অতীত বর্তমানকে নিয়ন্ত্রণ করে। চরিত্রগুলি বাস্তব এবং মানবিক। তাদের দুর্বলতা এবং শক্তি দুটোই ফুটে উঠেছে। উপন্যাসের শেষভাগে তরু এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। পাঠক সেই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বুঝতে পারে। এটি শুধু প্রেমের গল্প নয় বরং বেড়ে ওঠার গল্প। জাপানের সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের এক ছবিও এখানে আছে। উপন্যাসটি বিশ্বজুড়ে অনুবাদিত হয়েছে এবং চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। বাংলা পাঠকদের কাছেও এটি প্রিয়। এর বিষণ্ণ সুর মনকে নাড়া দেয়। মুরাকামির এই সৃষ্টি আধুনিক জীবনের একাকীত্বকে স্পর্শ করে। এটি পড়ার পর মনে হয় জীবনের অর্থ খুঁজতে হয় নিজেই। প্রেম কখনও সহজ নয় এই সত্য এখানে স্পষ্ট। উপন্যাসটি স্মৃতির গুরুত্বও তুলে ধরে। অতীতকে ভুলে যাওয়া কঠিন কিন্তু এগিয়ে যেতে হয়। এটি এক অমর যৌবন কাহিনি।












Reviews
There are no reviews yet.